fbpx

কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতা যে ভাবে লেখা হলো

‘বল বীর

বল উন্নত মম শির!

শির নেহারি আমারি নত শির ওই মিখর হিমাদ্রীর!’

 

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও আলোচিত কবিতা হলো বিদ্রোহী কবি খ্যাত বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা। কাজী নজরুলের এই কবিতা যেন বাংলা কবিতার এক নবযুগের অবতারণা করে।

১৯২১ সালের ডিসেম্বরের এক শীত কাতর রাত। সেদিন ছিলো ২৫ ডিসেম্বর অর্থ্যাৎ ক্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের ক্রিসমাসের রাত। কলকাতা মহানগরের তালতলা লেনের বাড়িতে বসে কাঠ পেন্সিলে লিখতে শুরু করেন বিশ্বযুদ্ধ ফেরত তাগড়া বয়েসী যুবক কবি। বাইশ বছরের তাগড়া কবি নজরুলের হাতেই সেই রাতে লেখা হয় ইতিহাস রচনাকারী কবিতা ‘বিদ্রোহী’। এই কবিতা লেখার পর বাংলা কবিতা আর কখেনোই পেছনে ফিরে তাকায়নি। কথিত ‘রবীন্দ্রবলয়’ থেকে কবিতাকে যেন মুক্তি এন দেয় এই কবিতাই।

 

১৯২১ থেকে ২০২১, বিদ্রোহী কবিতা রচনার পর পেরিয়ে গেছে একটি শতাব্দী। উপমহাদেশ মুক্ত হয়েছে দখলদার বৃটিশদের কবল থেকে। ভারত বর্ষ জুড়ে কত রকম বদল হয়েছে- বিদ্রোহী কবিতার আবেদনে এতটুকু ভাটা পড়েনি।

 

কবিতা রচনার পর পরের দিনই নজরুল তাঁর বন্ধু কমরেড মুজফফর আহমেদকে পাঠ করে শুনিয়েছিলেন। এর পরের সপ্তাহে বিদ্রোহী কবিতাটি সাপ্তাহিক বিজলী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটিতে কবিতাখানা ছাপা হলে ২ দিনেই পত্রিকার সব সংখ্যা বিক্রি হয়ে গেলে সপ্তাহের মাঝে আবারো ছাপানো হয় বিজলী। ১৩৯ পঙক্তির কবিতাটি পরবর্তীতে ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকায়ও প্রকাশিত হয়।

 

কবিতাটি ভারত বর্ষ জুড়ে ব্যাপক খ্যাতি বয়ে আনার পর কাজী নজরুলের বিরোধী কয়েকজন লেখক কবি ব্যঙ্গ-বিদ্রপ শুরু করে দেয়। কবি মোহিতলাল মজুমদার দাবি করেন, তাঁর রচিত ‘আমি’ শীর্ষক গদ্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নজরুল ‘বিদ্রোহী’ কবিতা লিখেছেন। কিন্তু নজরুল বিষয়টি স্বীকার করছেন না বলে ক্ষেপে যান মোহিতলাল মজুমদার। এছাড়াও বিদ্রোহী কবিতার ব্যঙ্গ করে ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় সজনীকান্ত দাস আরো একটি প্যারোডি কবিতা প্রকাশ করেন। ‘আমি ব্যাঙ/ লম্বা আমার ঠ্যাঙ/’ এভাবেই শুরু হয়েছিল সজনীকান্তের প্যারোডি।

 

তখনকার এবং বর্তমানের অনেক নজরুল গবেষক ‘বিদ্রোহী কবিতাটিকে উপমহাদেশে বৃটিশ বিরোধী রাজনৈতিক কবিতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। কবিতাটি বাঙালির মানসপটে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পট পরিবর্তনে যুগপৎ টনিক হিসেবে কাজ করেছে। তৎকালীন বৃটিশ সরকার বিদ্রোহী কবিতাটি নিষিদ্ধ করার জন্য উদ্যত হয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে ব্যাপক জনরোষের ভয়ে বৃটিশ সরকার কবিতাটি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া থেকে পিছু হটে।

সূত্র: উইকিপিডিয়া ও ইন্টারনেট

আরো পড়ুন: হাসান আজিজুল হকের গল্প

 

2 thoughts on “কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতা যে ভাবে লেখা হলো

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!