fbpx

১৯৫২: নিছক কোন সংখ্যা নয়

বইয়ের নাম: ১৯৫২: নিছক কোন সংখ্যা নয়

লেখক: মোহাম্মাদ নাজিম উদ্দিন

প্রকাশনী: বাতিঘর প্রকাশনী

ধরন: রহস্য ও থ্রিলারধর্মী

প্রকাশকাল: ২০১৪

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪১৬

মুদ্রিত মূল্য: ৪৫০ টাকা

 

লেখক পরিচিতি:

থ্রিলারধর্মী লেখক হিসেবে বাংলাদেশের লেখালেখির জগতে এক সুপরিচিত নাম মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন। তাঁর জন্ম ঢাকা জেলায়। বিশ্বমানের অসংখ্য জনপ্রিয় থ্রিলার অনুবাদ করার পর অবশেষে তার পর পর ৮টি মৌলিক থ্রিলার  প্ৰকাশিত হলে তিনি বিপুল পাঠকপ্রিয়তা লাভ করেন। লেখক ছাড়াও তিনি স্বনামধন্য বাতিঘর প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী।

 

কাহিনী সংক্ষেপ:

১৯৫২ নাম শুনলেই মনে হয় ভাষা আন্দোলন নিয়ে কোন গল্প-প্রবন্ধ কিংবা কবিতা। গল্পের মূল চরিত্রগুলোর একজন সায়েম মোহাইমেন, গাড়ি পাগল এই সাংবাদিক। বেশ ছোট থেকেই গাড়ির প্রতি তার নেশা। অনেক স্বপ্ন ছিল নিজের গাড়ির, অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ করলেন একদিন। সেদিনই বন্ধুদের পাল্লায় পরে গাড়ি কেনা উপলক্ষে হালকা মদ্যপান করেন এবং চার বিয়ারের বোতলসহ গাড়ীতে উঠেন। বাড়ি ফেরার পথে একদিকে কানে ফোন, অন্যদিকে হাতে বিয়ারের বোতল নিয়ে উত্তরার হাইওয়ে দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। ঠিক তখনই তিনি এক ব্যক্তির উপর দিয়ে গাড়ি উঠিয়ে দেন। একসময় জানা যায়, নিহত ব্যক্তি ভাষা আন্দোলনের সারথি সুফী পরিবারের ৩য় প্রজন্ম।

গ্রেফতার হলেন সাংবাদিক। কাকতালীয় ভাবে তার বন্ধু গোলাম মওলা সেদিনই ঢাকা বদলী হয়ে আসেন, এটা কি নিছক কাকতালীয়? গোলাম মওলা সেই কেসের দায়িত্ব দেন তার সাবেক প্রেমিকার ছোট ভাই মিশুকে। ঘটনাক্রমে দেখা যায় দূর্ঘটনার আগেই খুন হন ওই ব্যক্তি। মিশু মূহুর্তে নানা খবর জোগাড় করল কি করে? এসব প্রশ্নই বের করে আনে রোমাঞ্চকর সব টুইস্ট। আর ঘটনা মোড় নেয় অন্য দিকে।

আপাতঃদৃষ্টিতে এসব ব্যাপার সাধারন মনে হলেও তা ধারন করে বিশাল ভয়াবহতায়! আরো নানা মানুষ আসবে গল্পের কাহিনীর প্রয়োজনে কিংবা রহস্যের বেড়াজলে। আর সেই রহস্যের সমাধান দিতে পারে কেবল ‘১৯৫২: নিছক কোনো সংখ্যা নয়’।

 

বইটি যে কারনে সবার পড়া উচিত:

লেখক এই বইটি লিখেছেন সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে। বইটিতে হত্যা-ষড়যন্ত্র, মাদকাসক্তি, অপরাজনীতি, সামাজিক অবক্ষয়ের বাস্তবচিত্র বেরিয়ে এসেছে এক এক করে। তাঁর ভাষায় ঘটনাটি ছিল পোয়েটিক জাস্টিসের চমৎকার উদাহরণ। আর সে উদাহরণ থেকে তিনি সৃষ্টি করছেন সার্থক থ্রিলার। থ্রিলারধর্মী যে কোন পাঠকের উত্তেজনার পারদকে জাগিয়ে দিতে সামর্থ্য রাখে এই বইটি।

 

সমালোচনা:

গল্পটাকে কিছুটা টেনে লম্বা করা হয়েছে আমার মনে হয়েছে। এছাড়া সাসপেন্স আরো বেশি হতে পারত। তাছাড়া বিরক্তিকর যা লেগেছে উপন্যাসের তিন প্রধান পুরুষ চরিত্রেরই তাদের ভালোবাসার নারীর প্রতি একই ধরনের আচরণ দেখে। এক্ষেত্রে মনে হয় তাদের যেন একই ছাঁচে গড়া হয়েছে।

 

পাঠ প্রতিক্রিয়া:

বইটার গল্পের প্লট ছিলো দূর্দান্ত, কনফেশন থেকে তো বটেই। তাছাড়া বলতেই হয়, লেখকের লেখনী। দূর্দান্ত সাবলীল ও প্রাঞ্জল ভাষায় কাহিনীর বর্ণনা করেছেন তিনি। সব কিছু মিলিয়ে মাস্টারপিস একটা থ্রিলার এই বইটি। যা আমার কাছে অসম্ভব ভালো লেগেছে। এবং থ্রিলারধর্মী বই হিসেবে আমার পছন্দের তালিকায় শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে।

 

পারসোনাল রেটং: ৪.৫/৫

 রিভিউকারীঃ আবু তালহা, দেওয়ানগঞ্জ, জামালপুর। 

আরো পড়ুন: গর্ভধারিণী উপন্যাসের রিভিউ

গুগরিডসে রেটিং: ১৯৫২

 

error: Content is protected !!