fbpx

একগুচ্ছ কবিতা: আনিসুর রহমান অপু

বোঝা না বোঝার ব্যঞ্জনায়

ক্যানভাসে কার মুখ ভাসে?

নমিত নদীর ভাঁজে, নিরুচ্চার রঙে ও রেখায়

হেসে ওঠে সে বেলার পর্যটন পথ;

সেই কবে চোখে তার পড়েছিল চোখ

কবে সে মেঘের মলাটে লিখেছিল নাম

প্রাঙ্গনের পণ্ড প্রতিবেশী, অমৃতের জলের সান্নিধ্যে

জেগে থাকা হলাহল, হেসেছিল ক্রূর

অস্ফুট ইচ্ছের নীল খাম

আকস্মিক আলোর সংকেতে কেঁপেছিল বুক দুরু দুরু ,

নরম শিশির মেখে সোনার বরণী হেঁটেছিল ঘাসে!

 

বোঝা না বোঝার ব্যঞ্জনায়, রেখে গেছে গাথা

ব্যাকুলতা, সময়ের শুভ্র সংকলন-

সমন্বিত সংকল্পের সাধ, কাব্যময় সসঙ্গ আস্বাদ

নিজের মতোন রুয়েছে বিশ্বাসে-

গোছানো গল্পেও সহসা কেন যে নামে তছনছ!

খেলে কে এমন খেলা?

হতাশার হরিণেরা বিমূঢ় বিষাদ ঢালে অরণ্যের সবুজ সম্ভাষে-

 

সে আলোর তরী, চন্দ্রমল্লিকার স্নিগ্ধ সম্ভাষণ

আজ কোন কুয়াশার গ্রাসে!

আসে সে সুদূর, ডানাভাঙা ঢেউ-দুরন্ত সন্ন্যাসে,

যার সাথে কথা নেই, দেখা নেই শ’কোটি বছর ,

সময়ের আল বেয়ে, তার হাসি কেন ভেসে আসে?

 

 

মাশরুম চাষ বিষয়ক

খরগোশ কিংবা কচ্ছপের থেকেও শিখিনি কিছু

সবাই যখন গুছিয়েছে নিজ মাঠ-মন্বন্তর,

আমরা তখনো তুচ্ছ তাড়নায়-পিটুইটারীর

প্ররোচনায় কোকিল, কাক কিংবা দো-দিল দ্বিপদ

চিনতেও হয়েছে বিভ্রম মস্ত-আলেয়ার পিছু

ছুটেছি নির্ভরতার আলো ভেবে। মৃদু মতান্তর-

মনোমালিন্যও স্বজনের সাথে-দ্রৌপদী শাড়ির

 

সমুদয় রহস্য অজানা আজো-চতুর চিতার

চাঁদে মাশরুম চাষ বিষয়ক কর্মশালা নিয়ে

থেকেছি তুমুল ব্যস্ত দিনরাত, খুঁজেছি ফসল

বিশ্বাসের, শুধু বিশ্বাসের জন্য চিহ্নিত শ্বাপদ

তুলে এনেছি চূড়ান্ত চাঁদোয়ায়। কোরান-গীতার

কোনো বাণীই শোনেনি শয়তান, লন্ঠন নিভিয়ে

ঢেকেছে কুকীর্তি, সেজেছে সে বড় ধর্ম বৎসল।

 

 

সেইসব বৈদগ্ধ্য বৃত্তান্ত

পড়েছি কবিতা তার,

মগ্নপাঠে জানবে তুমিও বিমূঢ় বৃক্ষের ব্যাকুলতা-

গাছের-পাতার, সবুজ সম্মতি!

ঋতুতে ঋতুতে বাহারী ফুল-ফুলের সমাহারে

অরণ্যের অবিসংবাদিত নিবেদন।

কার্তিকের বিধুর বাতাসে হাসনাহেনার মান-অভিমান

নিয়ে বলা না-বলা কথার কথোপকথন।

 

জেনেছি, দক্ষিনা হাওয়ায় সাথে-কী কথা কয় কুঞ্জলতা—

গাঢ় মনোযোগে আরও পড়ে নেবো মার্জিনের মন্তব্য বিশদ,

শীত আসতে না আসতেই রোদ্দুরের কাছে পাতারা যে দিয়েছে স্মারকলিপি

জলপিপি পাখিদের পি-পি ডাক

রেখেছে সেখানে মিলন ঋতুর ঘ্রাণ!

সমব্যথী সেইসব ঋতুকথা, কষ্ট-দীর্ঘশ্বাস

পড়ে নিও মনের তাগিদে ।

 

রাতজাগা ডাহুকের কালো-সাদা ডানায় যে-কথাগুলো পাঠিয়েছে পৌষের প্রান্তর,

সেইসব বৈদগ্ধ্য বৃত্তান্ত পৌছে দেবো আগামীর কাছে একদিন।

 

মন দিয়ে পড়ার পরেই জানা যাবে কোন পাখি বসন্ত আসার আগেই গাছের কাছে লিখেছে প্রেমের চিঠি,

জেনেছি কীভাবে মিলেমিশে থাকে সবুজের শিশুরা সদল

নির্বিরোধ

যেভাবে ভাইবোনেরা জড়িয়ে-ছড়িয়ে বেড়ে ওঠে পিঠাপিঠি

জানিয়েছে তাদের দুঃখজরার নানান আখ্যান,

যদি হও গরীয়ান বুঝে নেবে

মিলন-বিরহ, আনন্দকথন

অব্যক্ত ব্যথার ফিসফিসানিও সব!

 

আরো পড়ুন: বদরুজ্জামান আলমগীরের কবিতা

 

error: Content is protected !!