fbpx

শাহিন চাষীর কবিতা

শঙ্কার রেণু 

ব্যথা ভাসছে মনে,

ব্যথা ভাসছে মননে;

হৃদয় যেন এক সৌরচুল্লী

সারাবেলা, সারাক্ষণ।

 

আস্থা মৃতপ্রায়, সন্দেহ পুঞ্জীভূত; বিশ্বাস দূরগামী, অবিশ্বাস

ঘণীভূত; বিভেদ- বৈষম্য- অনাচার পায়ে- পায়ে প্রতিদিন–

লতা- গুল্ম- আগাছার একান্ত পরিচিত স্বজন।

 

চোখে- চোখে ক্রোধ, বুকে- বুকে বারুদ; রক্ত বেসামাল, প্রাণ

টালমাটাল; চেতনা সৈনিক, রণের আহ্নিক; মগজ দিকভ্রান্ত,

মৃত্তিকা উদভ্রান্ত; কালের কণ্ঠে অবিরাম– জিঘাংসু রসায়ন,

খুনের ব্যাকরণ।

 

ক্ষুব্ধ আকাশ, ক্ষুব্ধ বাতাস; মেঘের গর্জন, বিদ্যুৎ নাচন; ফুঁসছে

সাগর- নদী; হাঁকছে ঝড়– প্রলয়ের পূর্বাভাস, ভাঙনের বিভাস;

স্থূল দেহের রাক্ষসী অন্ধকারে– বিপন্ন সমাজ- সভ্যতা, বিপন্ন জীবন।

 

দেবদূত আসছে না এ পাড়ায়, ঈশ্বর হাঁটছে না এ উপত্যকায়;

কালের আঁচলে বিভীষিকার ছায়া, পৃথিবীর পাঁজরে শূন্যতার

ছায়া; শঙ্কা- দ্বিধা- ভয় ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী অনুক্ষণ।

 

আবেশে- অনুভবে দুঃখের প্লাবন; অকাম্য ধোঁয়ায়, প্রগাঢ়

কুয়াশায়– ডুবে যায় সূর্য, ঢেকে যায় ললিত স্বপ্ন বিধিহীন, অকারণ।

ব্যথা ভাসছে–

উত্তরে- দক্ষিণে; পূবে- পশ্চিমে; অগ্নিতে- বায়ুতে; ঈশানে- নৈঋতে; ঊর্ধ্বে- অধেঃ

অবিরাম- অবিশ্রাম,

সারাবেলা, সারাক্ষণ।

 

তুমি  

আমার সমস্ত প্রহর তুমি,

কেবলই তুমি–

শুধুই তুমি।

 

স্নিগ্ধ ভোর:

তোমার ঐ নরম হাতের কোমল স্পর্শ,

আমার হৃদয়ের জাগরণ;

 

তপ্ত দুপুর:

তোমার হঠাৎ জেগে ওঠা লাল চোখ,

আমার একান্ত সংবরণ।

 

লাজুক বিকেল:

তোমার অবুঝ অভিমান রাঙানো মুখ,

আমার মায়াময় সুরেলা গান;

 

ধুসর সন্ধ্যা:

তোমার বিরহী মনের উদাসীন ছায়া,

আমার দুঃসহ যন্ত্রণার বাণ।

 

অন্ধকার রাত:

তোমার সুপ্ত ব্যথার বিমূর্ত পাণ্ডুলিপি,

আমার নিঃশব্দ- নীরব ক্রন্দন;

 

কুমারী জোছনা:

তোমার উচ্ছল হাসির ঠুমরি- খেয়াল,

আমার আবেশে সুখের অনুরণন।

 

আমার সমস্ত প্রহর জুড়ে তুমি;

তুমি মানে– শুধুই তুমি,

আর কেউ নয়।

 

মাতৃকার স্বর

এবার তবে

নুনকে করে দাও শায়েস্তা খাঁর চাল।

 

মানুষের মগজে পচন,

পিতারাও ভুলে যাচ্ছে পরিচয় তার

কামার্ত প্রেমিকের ঘন ভিড়ে

ভ্রাতার মন্বন্তর!

 

পুরুষের চোখে পড়ে না আর

অনাগত মায়ের স্নিগ্ধ শ্যামল ছায়া;

কথায় ফুল, মননে নগ্নতা,

নাসিকায় বড় বেশি বেপরোয়া–

স্তন ও যোনির ঘ্রাণ।

 

আমার কন্যারা আজ

চোখের পলকেই নষ্টা- ভ্রষ্টা- বেশ্যা;

শিষ্ন সমূহ বামুনের পৈতা,

আসামির কাঠগড়ায় নত মুখে

উত্তরের বাতাস!

 

মেয়ে জন্মালেই

স্বপ্নের শাখায় দুশ্চিন্তা- হলুদ পাতা,

বুকের ভেতর প্রবল উৎকণ্ঠা,

চোখের ভূমিতে আতঙ্কের শেকড়,

অশ্রুর ঝর্ণা ধারা।

 

নুনটাকে করে দাও

শায়েস্তা খাঁর চাল– অতি জরুরত,

মেয়ের কচি মুখে দিতে চাই

বিপুল শরবত।

 

আরো পড়ুন: বদরুজ্জামান আলমগীরের কবিতা

গুগল নিউজ চ্যানল: সুধাপাঠ

One thought on “শাহিন চাষীর কবিতা

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!