fbpx

দুধবোন: জাহীদ ইকবালের গল্প

গল্পটা যাদের তাদের মুখ থেকেই শুনুন।

বরকত আলী: কৌশলে জোবেদার বিশ্বাসের ঘরে সিঁধ কেটেছে মামাত ভাই সবুর। তাকে ইচ্ছামতো দুমড়েমুচড়ে একদম মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে। সম্পূর্ণ ঘটনার বয়ান এবং শানে নজুল খোদ জোবেদার জবান থেকেই নোট করা। তার নিজের কোনো আকাঙ্ক্ষা ছিল না। নিরেট ধর্ষণ। যা কিছু ঘটেছে, নিতান্তই জোরজুলুমে। কথাগুলো শোনার পর থেকে স্ত্রী হিসেবে জোবেদাকে আমার ঘেন্না লাগে। খুন করতে ইচ্ছে করে। তাকে একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও সে নিষেধ অমান্য করেছে। দোষ তার আরও আছে; তাকে বহুবার চোখে কাজল আঁকতে নিষেধ করেছি। সে আমার কোনো কথা গায়ে মাখেনি। সব তুচ্ছতাচ্ছিল্যের সঙ্গে উড়িয়ে দিয়েছে। চোখে কাজল আঁকা তার প্রাচীন স্বভাব। কোথাও গেলে তার একগাদা কাজল চোখে মাখা চাই-ই চাই। জোবেদার চোখে কাজল দেখলে আমারই মাথা ঠিক থাকে না আর পরপুরুষের কথা কী বলব! পরপুরুষ চিরকালই পরপুরুষ। রাস্তায় কোনো মেয়ে মানুষ দেখলে তারা এমন লোলুপদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে দেখলে মনে হবে মেয়েমানুষ কী জিনিস এইটা তারা কোনো জনমে দ্যাখে নাই! অন্যের কথা কী বলব! আমি নিজেও অনেকটা এমনই বেলেল্লা বেড়াল।

জোবেদার সালোয়ার-কামিজ ছিঁড়ে সবুর এমনই যাচ্ছেতাই বেহালদশা করেছে, যা একদমই পরিধানের অযোগ্য। তার সমস্ত শরীর-মুখ খামচে রক্তাক্ত করেছে। সবুরের কাঁচা বয়স। গ্রাম্যছেলে। এখনো বিয়ে-থা করেনি। জোবেদাকে দেখলে সবুর তো একটু অসবুর হবেই। কারণ সে তাকে শৈশব-কৌশোর থেকেই পছন্দ করে বসে আছে। জোবেদা তার উল্টোটা। সবুরকে সে মোটেও বরদাস্ত করে না। তবুও দীর্ঘদিন ধরে তার সব জোর-জুলুম, বেলেল্লাপনা সে মুখ বুজে সহ্য করে আসছে। সবুর তার বয়সে বড়। তাকে কড়া করে কিছু বলতেও পারে না অথবা বলেও কোনো কাজ হয় না। যখন কাজই হয় না তখন সে নিজেকে একটু আধটুকু ঢেকেঢুকে রাখলেই হতো! সে রাখেনি। পুরুষের চোখের ভাষা সে পড়তে পারে না। এটাও তার একটা কবিরা দোষের মধ্যে পড়ে। সে যে চিৎকার-চেঁচামেচি করবে, সেই মওকাটুকুও তখন তার ছিল না। তার আগেই কৌশলে সবুর তার  হাত-মুখ কঠিনভাবে বেঁধে ফেলেছে। তার কিছুই করার ছিল না। তবুও জোবেদার কঠিন শাস্তি হবে। এপারে আমার হাতে। ওপারে তাঁর হাতে। শাস্তি আমারও হবে। ভুল আমারও নেহায়েত কম ছিল না, কেন আমি তাকে একা একা তার মামাবাড়িতে ছেড়ে দিলাম! তার সঙ্গে আমারও যাওয়া উচিত ছিল। পুনরায় সঙ্গে করে আমাকেই  নিয়ে আসা উচিত ছিল। দুটোর কোনোটাই করিনি। স্বামী হিসেবে এটা-ই আমার মস্তবড় ভুল হয়েছে।

জোবেদার একটা ভালো গুণ হচ্ছে সে কখনো মিথ্যার আশ্রয় নেয় না। দুনিয়ার অধিকাংশ মেয়েমানুষ কারণে অকারণে স্বামীর কাছে প্রচুর মিথ্যা আওড়ায়। সে এইটা পারে না। মিথ্যাচার করতে গেলে কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হয়; এই কৌশলগুলো তার জানা নাই। তাকে আমি বলেছি, ‘কিছু মিথ্যা বলার কৌশল তোমাকে আমি শিখিয়ে দেব।’ কিন্তু সে কিছুতেই কৌশলগুলো শিখবে না। বোকা মেয়েমানুষ। বলে, ‘মিথ্যা বলা মহাপাপ!’ বয়স এক কুড়ি হওয়ার আগেই দিব্যি এক বাচ্চার মা হয়ে বসে আছে অথচ সে নিজেই একটা শিশু। জগৎসংসারের হাল-হকিকত বিলকুলই বেওয়াকেফ। বালিকার মতোনই তার চলনবলন। তা না হলে সবুর আজ কিছুতেই এত দূর এগুতে পারত না। সবুরের হাত দিনে দিনে প্রলম্বিত হচ্ছে। ক্রমাগত আরও প্রলম্বিত হবে। এক সময় শুধু মাকড়সার মতো তার হাতটা একটু বাড়ালেই সে জোবেদাকে হাতের মুঠোয় পেয়ে যাবে।

বিয়ে-শাদি, বাচ্চাকাচ্চা হওয়ার পর জোবেদার স্বাস্থ্যসুরত আরও যেন খুলেছে। বিয়ের আগে জোবেদা এত সুন্দরী ছিল না। মোক্ষম সুযোগ পেয়ে সবুর সেই অনিন্দ্য সুন্দরে ভাগ বসিয়েছে। ভাগ সে অনেক আগেই বসাতে পারত। কিন্তু এমন সুযোগ সে আগে কখনো পায় নাই। বাড়িতে মামি থাকলে জোবেদার দিকে সবুর হাত বাড়ানোর সাহস পেত না। মামি হাতটাই তার ভেঙে গুঁড়িয়ে ফেলত। খুবই খান-এ দাজ্জাল কিসিমের মহিলা। একটু এদিক সেদিক হলে সে মামাকেও আচ্ছা করে প্যাঁদানি দেয়। গায়ে পর্যন্ত হাত তোলে। নিয়ত করেছি আজ রাতেই জোবেদাকে ওপারে পাঠানোর ব্যবস্থা করব। যদি খুনটা ঠিকঠাক ভাবে করতে ব্যর্থ হই, তাহলে ওর গ্রামের বাড়ি মিঠাপুকুর, সবুরের কাছে পাঠিয়ে দেব। ঘেন্নাধরা মেয়েমানুষের সঙ্গে সংসার করা আমার পক্ষে সম্ভব না। ইহকালে জ্বলেপুড়ে মরার চে’ পরকালের দোজখে পুড়ে মরা যারপরনাই স্বস্তিদায়ক।

জোবেদা: পানের বরজে মেয়েদের প্রবেশ একদমই নিষিদ্ধ। মেয়েরা ভুলেও কখনো ঢোকে না। কিন্তু সবুর ভরদুপুরে কী এক মন্ত্রপড়া ওঁঝার মতো মন্ত্র পড়ে ঠিকই আমাকে ঢুকতে বাধ্য করে। বারংবার আমি তার কূটকৌশলের কাছে হেরে গেছি। এবার আমি প্রচণ্ড রকম ভয় পেয়ে যাই। ভাগ্যিস সেদিন কেউ দেখে নাই। কিন্তু এখানেই আমি প্রথম ফতুর হতে থাকি। সেদিন সমস্তরাত আমি ঘুমাতে পারিনি। যদি গর্ভে ভ্রুণ এসে যায়! তা হলে নির্ঘাৎ আমাকে গলায় ফাঁস নিয়ে মরতে হবে। দস্যুটা আমার পেছনে অনেক ছোটবেলা থেকেই আঠার মতো লেগে আছে। ওর বুদ্ধি আর কৌশলের কাছে আমি বরাবরই পরাস্ত হয়েছি। এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে আর পারছি না।

সবুর আমার তিন বছরের বড়। শরীরে দানবের মতো শক্তি। ওর শক্তির সঙ্গে আমি কখনোই পেরে উঠিনি। যতই নিষেধ করি না কেন ফলাফল এসেছে জিরো।  আমার হবু বরকে ‘সবকিছু বলে দেবে’ বলে বিয়ের আগের দিন রাতেও সে আমার কাছে এসেছিল। পূর্ণ ইচ্ছে বা সর্মথন আমার কোনোদিনও ছিল না। তার ইচ্ছেয়ই সব হতো। মনে মনে তাকে খুন করতে চাইতাম। কিন্তু কী করে তাকে খুন করব! একটা মানুষকে খুন করা কী চাট্টিখানি কথা! তবুও একদিন না একদিন পারতে তো আমাকে হবেই। সবুরের কারণে বরকতকে আমি সহ্য করতে পারি না। তাকে বাসর ঘরেই বলে দিয়েছি ‘এইসব হাতাহাতি আমার পছন্দ না। সুন্দর সুন্দর কিচ্ছা- কাহিনী বলেন। রাতভর আপনার কিচ্ছা শুনব! এমন বেলেল্লাপনা করলে আমি কিন্তু সমস্তরাত দরজার বাইরে গিয়ে বসে থাকব!’

সে আমার সব কথাই শোনে। আমার সমস্ত খামখেয়ালিপনা সহ্য করে। কোনো কিছুতে জোর করে না। মানুষটা আমাকে প্রচণ্ড রকম বোঝানোর চেষ্টা করে। আমি বেশিরভাগই বুঝতে চাই না। সে আমার শুধু রূপ যৌবনের প্রেমে পড়েনি; আমার সবকিছুই তার ভালো লাগে। আমাকে ভীষণ রকম পছন্দ করে,  ভালোবাসে। তার আদর আর প্রণয়ের ভেতরে কোনো হিংস্রতা নেই। মানুষটা প্রচণ্ড রকম সহজ-সরল। কিন্তু সে মনে করে আমি খুব বোকা। হ্যাঁ মানুষটার কাছে আমি সমস্ত জীবন বোকার মতোই থাকতে চাই। কিন্তু সবুর আমাকে থাকতে দেবে না। সে আমার জীবনটা জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে হাবিয়া দোজখ বানিয়ে দিয়েছে।

আমার বাবা নেই। মা থেকেও নেই। তার মাথায় মানসিক সমস্যা। মামা-মামির শাসনেই বেড়ে উঠেছি। তারাই আমাকে পেলেপুষে বড় করেছেন। যতটুকু পেরেছেন লেখাপড়া শিখিয়ে বিয়ে-শাদি দিয়েছেন। মা এখনো মামাদের কাছে থাকেন। অদৃশ্য মায়ার টানেই তাদের কাছে আমার ছুটে যেতে হয়। না গিয়েও পারি না। মাঝে-মধ্যে মা’কে খুব দেখতে ইচ্ছে করে। পাগল হলেও সে আমার গর্ভধারিণী! কিন্তু সবুর কুত্তার বাচ্চার জন্য সবকিছু তালগোল পাকিয়ে যায়। সে খুব ঝামেলা করে। সারাক্ষণ আঠার মতো পেছনে লেগে থাকে। অসংখ্যবার ভেবেছি, মামিকে সব বলে দেব। বলা হয়ে ওঠে না। বললে মামি ওকে গোরুর মতো জবাই করে মেরে ফেলত। এখন আমি নিরুপায়। বলতে আমাকে হবেই। এভাবে অপরাধী আর চোরের মতো জীবন নিয়ে চলা যায় না।

মরিয়মের বয়স প্রায় দেড় বছর। বাচ্চাটা সবুরের। দুনিয়ার কেউ না জানুক আমি জানি। কারণ আমি ওর মা। বরকত প্রচণ্ড রকম পছন্দ করে আমাকে। সে আমার সাত বছরের বড়। স্বামী হিসেবে নিঃসন্দেহে সে একজন ভালো মানুষ। কমবেশি সবকিছু তার সঙ্গে  শেয়ার করা যায়। তার ধারণা আমি মিথ্যা বলতে জানি না। মিথ্যা আমি নেহায়েত কমও বলি না। বেঁচে থাকার জন্য একটু ভালো থাকার জন্য আমাকে প্রচুর মিথ্যার ভেতর দিয়ে যেতে হয়। তা না হলে মিথ্যা বলার কোনো প্রয়োজন ছিল না। সবকিছুর মূলে সবুর। সবুরের জন্য বলতে হয়। যখন দেয়ালে গিয়ে পিঠ ঠেকেছে; তখনই সত্যটা বরকতকে বলতে বাধ্য হয়েছি। মানুষটাকে অনেক ঠকিয়েছি। নতুন করে আর ঠকাতে চাচ্ছি না। বিয়ের দেড় মাস পর বরকত আমাকে উঠিয়ে নেয়। এই দেড় মাসে সবুর আমাকে অত্যাচার করে করে ধ্বংসের কিনারে এনে দাড় করিয়েছে।

ভাগ্যিস বরকত কোনোকিছুই টের পায় নাই। কিন্তু এবার সবুর আমার মুখ আর শরীরের যে হাল করেছে, এটা কোনোক্রমেই গোপন রাখা সম্ভব না। বরকতকে বারবার বলেছি আমাকে থানায় নিয়ে যেতে। সে কিছুতেই থানায় যাবে না। থানায় গেলে তার মান-ইজ্জত যেটুকু আছে তা-ও নাকি সব ধুলোয় মিশে যাবে। শেষ পর্যন্ত সে নাকি আমাকেও হারাবে। আমাকে সে কোনোক্রমে হারাতে চায় না। অথচ যে মানুষটা আমাকে এত কেয়ার করে; এক মুহূর্তের জন্য চোখের আড়াল হতে দেয় না। সেই মানুষটা আবার ক’দিন ধরে আমাকে এড়িয়ে চলছে। আমাকে ছুঁয়েও দেখে না। মরিয়মকে জড়িয়ে ধরে শুধু কাঁদে। কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়ে। আর পারছি না… এবার সবুরের সব কথা মামিকে বলে দেব। একজীবনে কত আর ধর্ষণের শিকার হব! পৃথিবী উল্টে গেলেও সবুরকে আমি কোনোদিন ক্ষমা করব না। মামির বিচার পছন্দ না হলে একদিন নিজেই ঘুমের ভেতরে শকুনটাকে জবাই করে  টুপ করে ফাঁসির দড়িতে ঝুলে পড়ব। তার আগে মেয়েটাকে মামির কাছে রেখে আসব।

সবুর: জোবেদাকে যে কী পরিমাণ আমি পছন্দ করি তা জোবেদার চাইতে ভালো কেউ জানে না। জোবেদা আমার দুধবোন। কিছুদিন আমার ছোট বোনের সঙ্গে মায়ের বুকের দুগ্ধপান করেছিল। মা আমাকে কোনোদিনও জোবেদাকে দেবে না। এসব রিশতা আমি বরদাস্ত করি না। যেভাবেই হোক জোবেদাকে আমি চাই। ঠিক করেছি, বরকতকে খুন করে জোবেদাকে নিয়ে দূরে কোথাও পালিয়ে যাব।

বরকত আলী: আজ পূর্ণিমা কি না জানি না। জানালা গলিয়ে ভরাট চাঁদের আলো এসে সমস্ত ঘর সয়লাব হয়ে গেছে। কয়েক চিলতে আলো এসে জোবেদার শরীরে পড়েছে। জোবেদা বেশ মোটাসোটা। মোটা বলেই হয়ত ওর ঘুম একটু বেশি। নিষ্পাপ শিশুর মতো মরিয়মের পাশে ঘুমাচ্ছে। ওর ব্লাউজের সবগুলো বোতাম খোলা। গতকালও সারারাত বোতামঘর খোলা ছিল। জোবেদার চোখে মোটা করে কাজল আঁকা। ওর পরনের ঘন ছাপা কমলা রঙের শাড়িটা এমন ভাবে হাঁটুর উপরে উঠেছে যে, তার মসৃণ দুধশাদা উরুটাও দৃশ্যমান হচ্ছে।  জোবেদার মায়াবী, নিষ্পাপ আর সরল মুখ। ওকে আগুনের মতোই সুন্দর লাগছে। জোবেদাকে বিদায় জানানোর আগে, একবার জনমের মতো আদর করে ঘুম পাড়াতে চাই। কিছুদিন ধরে ওকে আমার খুব ঘেন্না হচ্ছিল। মুখের ভিতরে থুতু চলে আসছিল। বেশি ঘেন্না হচ্ছিল যখন জানলাম মরিয়ম আমার না, সবুরের মেয়ে। একাধিকবার তারা নিষিদ্ধ অন্ধকারে গা ভাসিয়ে একটি ভ্রুণের জন্ম দিয়েছে। তারা একই সাথে হেসেখেলে ডুবসাঁতারে বড় হয়েছে। সবুর আমাকে বাঁচতে দেবে না। সে তার সন্তান নিয়ে যাবে। ও যেভাবে আমার পা জড়িয়ে ধরে কেঁদে কেঁদে কথাগুলো উপস্থাপন করেছে তাতে করে আমার একটুও মনে হয়নি ও মিথ্যা বলেছে। জোবেদার জন্য সবুর সবকিছু করতে পারে। ফাঁসির দড়ি তার কাছে ফেলনা ছাড়া কিছু নয়।

জোবেদা বুনোসুন্দরী। ওর চোখ দুটো আমার বেশি পছন্দ। হাসলে গালে টোল পড়ে। জোবেদার চে’ ইচ্ছে বরাবরই আমার বেশি ছিল। তার প্রচণ্ড রকম ইচ্ছে বাড়ে এবার মামাবাড়ি থেকে ফিরে আসার পর। ওর জন্য আমার খুব মায়া হয়। নিষ্পাপ সুন্দর একটা মুখ। মুখ দেখে ঠাহর হয় না, কোনোদিন কেউ ওর শরীরে একটা ফুলের টোকা দিয়েছে।

রাতভর ছুরিটা জোবেদার গলায় তাক করে রেখেও যখন ব্যর্থ হই, হুট করে ছুরিটা নিজের গলায় বসিয়ে দিই। ফিনকি দিয়ে রক্ত ছোটে। আমার রক্তে জোবেদার স্তন, নাভি, উরু গলিয়ে বিছানায় খুনের নহর বয়ে যায়। তবুও জোবেদার ঘুম ভাঙে না। তার কাজলপরা চোখে যেন মায়া আর মায়া। ইচ্ছে করে জড়িয়ে ধরে একটা চুমু খাই। স্তনে মুখগুঁজে পড়ে থাকি। পারি না। আমার চোখ চলে যায় জোবেদার পায়ের কাছে। জোবেদা পায়ে আলতা পরেছে। আমি জোবেদার আলতারাঙা পায়ের কাছে মুখথুবড়ে পড়ে যাই…।

সেই মুহূর্তে আকাশের ভরাট চাঁদটা আস্তে-ধীরে নিভে আসে। চাঁদটা যে কখন জানালা গলিয়ে বেরিয়ে গেছে একটুও টের পাইনি।

জোবেদা: মামা হাট থেকে বিশাল একটি রাজহাঁস এনেছেন। রাজহাঁসের মাংস আমার খুব পছন্দ। অনেক দিন ধরে খুব রাজহাঁসের মাংস খেতে ইচ্ছে করছিল। আজ মন ভরে খাব। খুন না করেও আমি খুনের মামলার ফেরারি আসামি। বরকত যে দুনিয়ায় নেই, এই তথ্য মামাবাড়ির কেউ-ই জানে না। যে কোনো মুহূর্তে পুলিশ আমাকে ধরে নিয়ে যেতে পারে। জেলখানায় কেউ আমাকে রাজহাঁসের মাংস খাওয়াবে না! তাই আজ নিজের হাতে রাজহাঁস জবাই করে সবাইকে রান্না করে খাওয়াব। নিজেও খাব। গতকাল রাত থেকেই দা’য়ে খুব শান দিচ্ছি। যেন পাঁঠাবলির মতো ধড় থেকে খুব সহজেই মাথাটা এক কোপে দু’ভাগ করা যায়…।

আরো পড়ুন: স্বামী বিবেকানন্দের বাণী

error: Content is protected !!